কেন একজন মানুষ সত্যিই একা

আচ্ছা, মানুষ কি আসলেই একা? আমার মাঝে মাঝে মনে হয় তার একা হবারই কথা। কেননা তার চিন্তায় আর কেও ঢুকতে পারেনা। ভাবনার দুনিয়ায় সে আসলেই একা। তার ভাবনাটা অন্য কেও ভেবে দিতে পারেনা। চার পাশে অনেক মানুষ থাকলেও চোখ বন্ধ করলে আর কাউকেই দেখা যায়না। 

এক সময় হয়তো পুরু ব্রেইনটাকে একটা কম্পিউটারে সেভ করে রাখা যাবে বা লিংক করা যাবে। প্রফেসর মিচিও কাকো এমনটাই বলেছেন উনার The Future of Humanity বইটিতে। 

আমি ধরে নিচ্ছি মানুষের মন ব্রেইনে বসবাস করে। যদি লিংক করা সম্ভব হয় শেষ পর্যন্ত তবে কিন্তু  দারুন হবে। আপনার মাথায়,  এই ধরুন, আপনার দেশের সরকার, পুলিশ, আপনার ছেলে পুলে, বউ বা স্বামী এরা যখন চাইবে ঢুকে যাবে। তখনও কি মানুষ একা থাকবে ? মনে হয়না, কারণ যখন স্বকীয়তা বলে কিছু থাকবেনা  তখন আবার একাকিত্ব কি জিনিস? এতে কিন্তু সুবিধা আর বিপত্তি দুটোই হবে বলে আমার মনে হয়। 

যেমন আপনি জানতে পারবেন আপনার বোবা বাচ্চাটা আসলে কি ভাবছে কিন্তু বলতে পারছেনা, বা আপনার দুষ্ট ছেলে টের পেয়ে গেছে আপনি আপনার সম্পদ বা ব্যাংকের টাকা নিয়ে কি পরিকল্পনা করছেন। অথবা আপনার বউ জেনে যাচ্ছে আপনি মনে মনে কাকে নিয়ে ফ্যান্টাসি করছেন, আর আপনি জেনে যাবেন আপনি অফিসে আসার পর আপনার বউ কাকে নিয়ে কবিতা লিখছে আর সেগুলো  চুলোয় পুড়িয়ে ফেলছে, হয়তো আপনিই সেই জন শুধু আগে জানতেন না। পুলিশ জেনে যাবে চোর কোথায় আর চোর জানবে পুলিশ কতদূর। সরকার জানবে আপনি এর পর আর কোন কোন দেশে টাকা পাঁচার করার কথা ভাবছেন। আহারে! সেদিন কত কিছুইনা সম্ভব হবে তাই না? 

3 responses to “কেন একজন মানুষ সত্যিই একা”

  1. টেকনোলজিক্যালি সম্ভব হয়তো অদূর ভবিষ্যতে, কিন্তু মোরালি বা এথিক্যালি অনেক প্রশ্ন/ পলিসি আগে সেট করতে হবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমি একেবারেই চাইবো না, কারন এই এক্সেস ব্যক্তি স্বাধীনতা, প্রাইভেসি, স্বকিয়তা সব নষ্ট করে দিবে, যা এত বছর হিউমান রাইটস হিসাবে আমরা ইসটাবলিশড করে আসছি। তবে লিমিটেড প্রোগ্রামাটিক এক্সেস হতে পারে স্পেশাল কেস লাইক মেডিক্যাল নিড, জুডিশিয়াল নিড যেমন কনভিকশন কনফার্ম করার জন্য ইত্যাদি। সেইটাও স্ট্রিক্ট কন্ট্রোল এন্ড অডিট এনভায়রনমেন্টে। কারন আমরা অলরেডি আমাদের হেলথকেয়ার ডেটা সেটা হিস্টরিক্যাল বা লাইভ হেলথ, শেয়ার করছি কিন্তু স্মার্ট ওয়াচ বা ইএমআর এর মাধ্যমে। প্রশ্ন হচ্ছে ফিজিক্যাল হেলথ এর মত মেন্টাল ডেটাও কি আমরা শেয়ার করতে চাই কিনা, বা বাধ্য হবো কিনা। চার্লি ব্রুকের ‘ব্ল্যাক মিরর’ নামে একটা টেক ফিকশন এন্থলজির একটা এপিসোড ছিলো এরকম, আপনি চাইলে আপনার সমস্ত মেমরি স্টোর এন্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। চার্লি অবশ্য খুবই ইন্ট্রেস্টিং ইউজ কেস দেখিয়েছে, মেইনলি সোশ্যাল পার্স্পেক্টিভ এ কিভাবে রিলেশনাল হ্যাজার্ড হবে মেমোরি শেয়ারের কারনে, স্বামি স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ, অশান্তি বাড়বে ইত্যাদি।

    যাই হোক, মেটা, এআই, ভিয়ার বেজড সোশ্যাল মিডিয়া বা ভার্চুয়াল টুলস এর ব্যবহার যত বাড়বে, আমাদের এক্সপোজারও ততটাই বাড়বে, এইটা ইনএভিটেবল।

    Liked by 1 person

    1. তন্ময় ফেরদৌস

      Like

    2. তন্ময়, আপনার থট প্রসেস আমার ভালো লেগেছে। আমিও মনে করিনা কিছু ন্যারো কেস ছাড়া এটার বহুল ব্যবহার হওয়া উচিত যদিও টেকনোলজি চলে আসবে এবং কিছু অতি উৎসাহীর তর সইবেনা। মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

      Like

Leave a reply to Anonymous Cancel reply